এসটি নিউজঃ গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ ২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবার, রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আবদুল্লাহ আল আমিন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল—বাংলাদেশ আর কখনো গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুরোনো চর্চায় ফিরে যাবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশার বিপরীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরও বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগের ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যদেরই ২৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে।
তিনি বলেন, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে গুমের অভিযোগ করেন। কিন্তু স্বজনের সন্ধান ও বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করার পর উল্টো সেই পরিবারের সদস্যদেরই ২৭ দিন জেল খাটতে হয়েছে। একজন নাগরিক গুমের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ জানানো যদি তাঁর পরিবারের জন্যই শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রাষ্ট্রের কাছে একজন ভুক্তভোগী কীভাবে ন্যায়বিচার চাইবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, গুমের অভিযোগকারী ভুক্তভোগী বা তাঁর পরিবারের ওপর এমন প্রমাণের দায় চাপানো যায় না, যেখানে অভিযোগের বিপরীতে রাষ্ট্রযন্ত্রেরই ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। বরং প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে বলেই শুধু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সেটিকে বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়। কোনো আইন বা উদ্যোগে আরও উন্নতি প্রয়োজন হলে তা সংশোধন ও শক্তিশালী করা যেতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় পূর্বের পদক্ষেপ বাতিল করে এমন নতুন ব্যবস্থা করা হলে, যা শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগীকেই আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, সেটি হবে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতমুখী যাত্রা।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার ও গুমের মতো মৌলিক বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পেছনের দিকে হাঁটা উচিত নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ভালো না খারাপ—এমন বাইনারি রাজনৈতিক অবস্থান না নিয়ে, জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি পদক্ষেপ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তালবাহানা না করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
(এডমিন)
#abdullah_al_amin #narayanganj4 #NCP #Odhikar
https://slotbet.online/