নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পূর্ব শত্রুতা ও বিবাহ বিচ্ছেদের জেরে মো. মামুন (২৬) নামে এক যুবকের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা রুনা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দাপাইদ্রাকপুর এলাকার বাসিন্দা রুনা বেগমের ছেলে মামুনের সাথে একই এলাকার আকলিমা (৪২) নামের এক নারীর বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহের কারণে গত ২-৩ মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিচ্ছেদের পর থেকেই আকলিমা ক্ষিপ্ত হয়ে মামুনকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং তার পূর্বের স্বামী মানিকের সাথে যোগসাজশ করে আসছিলেন।
গত (২১ এপ্রিল ২০২৬) রাত পৌনে ১২টার দিকে মামুন তার নানীর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে ফতুল্লা রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা আকলিমার নির্দেশে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযুক্ত মানিক (৪০), আল আমিন (২৬), জয়নুদ্দিন জনু (৩৮), জাবেদ (৩৫), জোবায়েদ (২০), পিচ্চি কালু (২২), আজমীর (৩০), আসিফ (২৭), নাইম (২৬), চোর সুমন (২৫) ও শহিদ কাকা (৩৮) সহ একদল সন্ত্রাসী চাপাতি, রামদা, ছুরি ও লোহার রড দিয়ে মামুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতে তার মাথা, হাত ও পা-সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
হামলাকারীরা কেবল জখম করেই ক্ষান্ত হয়নি, মামুনের সাথে থাকা একটি রেডমি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, নগদ ১৮ হাজার টাকা এবং প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। মামুনের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নারায়ণগঞ্জ ভর্তি করে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
https://slotbet.online/